অরফিউসের দ্বিতীয় মৃত্যু
— মোবায়দুল সাগর
তোমার প্রতি আমার প্রেম এখনও আছে,
সেই অতি আদিকাল থেকে,
যখন মানুষ প্রথম বজ্রপাতের আগুন দেখে নিজের অন্ধকার চিনেছিল।
তারও আগে থেকে আমি তোমাকে ভালোবেসেছি,
যখন অজৈব পদার্থের বিক্রিয়ায় প্রথম জৈব অণু সৃষ্টি হলো।
সেই জৈব অণু থেকে কিন্তু প্রথম জীব সৃষ্টি হয়নি,
হয়েছিল তোমার প্রতি আমার প্রেম।
তুমি বহুদূরে থাকো, তা কিন্তু নয়।
আমি রোজ ভোরে পূর্বাগ্নি কোণে মঙ্গল গ্রহকে দেখি।
আমার কত কাছে ওই লাল উজ্জ্বল গ্রহটা!
অথচ তোমার-আমার কৃত্রিম দূরত্ব নাসাও আজ পর্যন্ত পরিমাপ করতে পারেনি।
আমি ভালোবাসতে বাসতে কখনও ক্লান্ত হইনি।
সিসিফাস আমার অক্লান্ত ভালোবাসা দেখে প্রাণপণ আর্জি করেছিল—
ভাই, আমি আর পারছি না এই পাথর নিয়ে, তুমিই এবার খেলো।
আমি ওর আবদার শুনে হাসতে হাসতে ফেসবুকে চারখানা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম।
জানি না, তুমি সেই স্ট্যাটাসগুলো দেখেছিলে কি না।
তবে তোমার মতো কোনো এক অতিমানবী হাহা রিয়্যাক্ট দিয়ে শেয়ারও করেছিল।
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ কেমন করে যেন গ্যালিলিওর পক্ষে মিছিল করতে করতে গির্জা ভাঙতে চলে গেলাম।
ফিরে এসে দেখি, চ্যাটজিপিটি কবিতা লিখছে,
আর দুনিয়ার সব প্রেমিকারা তাতে নিজের নাম বসিয়ে নিয়েছে।
সেই ভিড়ে আমি তোমাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম।
শুনলাম, তুমি কার সঙ্গে ঘর পাততে গিয়ে নিজেই খুব করে বুক পুড়িয়েছো।
আঁধারে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম সারারাত।
প্রেম কি এতটাও হড়কা বান ডেকে আনতে পারে হৃদয়ে চাষ করা সবুজ ধানের ক্ষেতে?
ভাবতে ভাবতে তোমাকে খুঁজে পেলাম ইন্সটাগ্রামের রিলসে।
তুমি আগের মতোই আছো, তা বলব না।
যেমনটা তোমাকে দেখেছিলাম নিয়ানডারথালদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধের দিন।
তুমি সেদিনের চেয়ে কতটা বদলে গেছো—
কেউ আর রেডিওতে গান শোনার জন্য অ্যান্টেনা ঘোরায় না।
আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।
ভালোবেসে শুধু ক্ষান্তই হইনি,
তোমার সুখে আমিও সুখী হতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু তুমি যে বুক পুড়িয়েছো,
তাতে কি আমার বুক পুড়ল না?
তোমাকে আর খুঁজব না।
অরফিউসের মতো পিছনেও তাকাব না।
অথচ তোমার প্রতি আমার প্রেম এখনও আছে।
শুধু এটুকু জানি, কোথাও কোনো অন্ধকারে
আমার ভালোবাসার ইতিহাস
পড়ে থাকবে এক অসমাপ্ত জীবাশ্ম হয়ে।
১১-০৪-২০২৬
মিরপুর-১, ঢাকা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন